শীতে বাচ্চাদের সুরক্ষায় করণীয়

শীতে বাচ্চাদের সুরক্ষায় করণীয়

2 months ago

শীতকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমতে থাকে, আর সেইসঙ্গে বাচ্চাদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি নানা অসুখ দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বাচ্চাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় শীতে তাদের বাড়তি যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শীতে বাচ্চাদের সুস্থ, স্বস্তিদায়ক এবং সুরক্ষিত রাখতে যেসব বিষয় মনে রাখা দরকার, তা নিয়েই এই ব্লগ।

১) পর্যাপ্ত ও সঠিক পোশাকের ব্যবস্থা

  • স্তরে স্তরে পোশাক পরানো: শীতকালে অনেক সময় মোটা একটি পোশাকের বদলে তুলনামূলক পাতলা কিন্তু একাধিক স্তর পরানো বুদ্ধিমানের কাজ। এতে তাপ সংরক্ষণ ভালো হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা একাধিক স্তর খুলে ফেলা সহজ হয়।
  • মাথা, কান ও পায়ের যত্ন: বাচ্চাদের মাথা, কান ও পা ভালোভাবে ঢেকে রাখা জরুরি। শীতের সময় বেশিরভাগ তাপদাহ মাথা ও পায়ের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। তাই একটি উষ্ণ টুপি, মোজা ও হাতমোজা অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।

২) সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ

  • সুষম খাদ্য: শীতকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, শস্য ইত্যাদি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • তরল খাবার: শীতকালে অনেক বাচ্চা পর্যাপ্ত পানি খেতে চায় না। কিন্তু শরীর সুস্থ রাখতে উপযুক্ত পরিমাণে পানি, স্যুপ, ফলের রস ইত্যাদি খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। গরম স্যুপ বা হালকা গরম পানি তাদের সর্দি-কাশি কমাতেও সহায়তা করে।

৩) ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি

  • হাত ধোয়ার অভ্যাস: শীতকালে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই খাবার খাওয়ার আগে ও বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বাচ্চাদের শেখাতে হবে।
  • নাক ঢেকে রাখা: বাইরে গেলে মাস্ক বা স্কার্ফ দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা ভালো। বিশেষ করে ধুলাবালি ও ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচতে এটি কার্যকর।

৪) ঘর পরিষ্কার ও বাসার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

  • ঘর শুকনো ও উষ্ণ রাখা: খুব বেশি শীতপ্রবণ এলাকায় বাস করলে ঘরে হিটার বা রুম হিটার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে ঘরে যেন পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল থাকে ও অতিরিক্ত শুকনো হয়ে না যায়।
  • বিছানা ও বিছানার চাদর: বিছানায় শীতের মোটা কম্বল বা লেপ ব্যবহারের পাশাপাশি বিছানার চাদর নিয়মিত পাল্টে পরিষ্কার রাখা জরুরি। ধুলিকণা ও অ্যালার্জির ঝুঁকি কমায়।

৫) ত্বকের যত্ন

  • ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: শীতকালে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। বাচ্চাদের জন্য মৃদু, অ্যালার্জি-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। গোসলের পর এবং শোয়ার আগে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে শুষ্কতা কমে।
  • অতিরিক্ত গরম পানি পরিহার: খুব গরম পানিতে গোসল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে যায়, এতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে ওঠে। হালকা গরম পানি ব্যবহার করাই উত্তম।

৬) পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম

  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: পর্যাপ্ত ঘুম বাচ্চাদের শরীরকে সুস্থ ও ফুরফুরে রাখে। ঘুমের সময় শরীরের কোষগুলো তরতাজা হয়, যা অসুখ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • নিয়মিত রুটিন: রাতে শোয়ার আগে উষ্ণ দুধ, হালকা গল্প বা বই পড়া, আরামের পরিবেশ ইত্যাদি তাদের দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে।

৭) মাঝেমধ্যে রোদে বেরোনো

  • ভিটামিন ডি: শীতকালে শরীরে ভিটামিন ডির অভাব হতে পারে, কারণ সূর্যের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। যখনই আবহাওয়া ভালো থাকে, বাচ্চাদের খানিকটা সময় রোদে থাকতে দিন।
  • হালকা ব্যায়াম ও খেলাধুলা: রোদে কাটানো সময়ের মধ্যে হালকা দৌড়ঝাঁপ বা খেলাধুলা করলে শরীর গরম থাকে এবং তাদের শক্তি বাড়ে।

৮) চিকিৎসকের পরামর্শ

  • টিকাদান: শীতের আগে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় টিকা থাকলে শিডিউল অনুযায়ী দিয়ে রাখা ভালো।
  • যে কোনো অসুস্থতায় গুরুত্ব: বাচ্চা যদি দীর্ঘমেয়াদী কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগে থাকে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শীতে বাচ্চাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গেলে সামান্য কিছু পদক্ষেপ পালন করলেই বড়সড় অসুস্থতা থেকে তাদের রক্ষা করা সম্ভব। সুষম খাবার, সঠিক পোশাক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত যত্ন—এই কয়েকটি বিষয় মেনে চললে আপনার ছোট্ট সোনামণিটি শীতকালটা উপভোগ করতে পারবে সুস্থভাবে। স্মরণ রাখবেন, প্রতিটি বাচ্চার শারীরিক অবস্থা আলাদা, তাই বিশেষ কোনো সমস্যা বা উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। সবাইকে উষ্ণ ও সুস্থ রাখুন, নিরাপদ ও আনন্দময় হোক শীতের দিনগুলি!